সুনামগঞ্জ

রেড জোন-লকডাউন নিয়ে বিভ্রান্তি

Stay Home

নাইম তালুকদার,সিলেট ভিশনঃ রেড জোন বা লকডাউন কার্যকর হবার আগেই সুনামগঞ্জের অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

গত ১৪ জুলাই দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উধৃতি দিয়ে শহরে মাইকে প্রচার করা হয় সুনামগঞ্জ পৌরসভাসহ পাঁচ উপজেলার ১৫ টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইদিন বিকালে এবং পরদিন সকালে পুলিশ দোকানপাট বন্ধ করার জন্য এলাকায় এলাকায় গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে জানায়।
১৫ জুন দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে কোভিট-১৯ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় রেড জোন এলাকা চিহিৃত করা হয় এবং এই পরবর্তী নির্দেশনা চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেবার সিদ্ধান্ত হয়। তথক্ষণে অর্থাৎ ওই দিন সকাল থেকেই জেলার সকল ব্যাংকে রেড জোন এলাকার সময় নির্ধারণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়। জেলার ভার্চুয়াল বিচারিক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাটও ওইদিন বন্ধ থাকে।
পরদিন আবার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়। রেড জোন বা লকডাউন সুনামগঞ্জে কার্যকর হয় নি। প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সিদ্ধান্ত জানাবেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানানোর পূর্ব পর্যন্ত সব কিছুই চলবে আগের মতো (১৪ জুনের আগে যেভাবে চলেছে)।
কিন্তু সুনামগঞ্জের সবকয়টি ব্যাংক ১৫ জুন মঙ্গলবার থেকেই সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে থাকে। জেলার ভার্চুয়াল বিচারিক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় আর্থিক বছরের শেষ মাসে বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জবাসী।
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া জানান, গত বুধবার সরকারের রাজস্বের টাকা ও কল্যান তহবিলের টাকা জমা দেবার জন্য সুনামগঞ্জ শহরে গিয়েছিলেন তিনি। সকাল ১০ টায় প্রথমে সোনালী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখায় টাকা জমা দেন। পরে যান রূপালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখায়। রূপালী ব্যাংকে যাবার পর ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানিয়ে দেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেই, লেনদেন চালু রাখার। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ওখান থেকেই ফোন দেন তিনি। জেলা প্রশাসক তাকে জানান, টাকা জমা নিতে হবে, লেনদেন বন্ধ রাখার কোন সিদ্ধান্ত হয় নি। পরে অনেক্ষণ চেষ্টা করেও টাকা জমা না দিয়েই ফিরে আসেন তিনি।
শহরতলির অক্ষয়নগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজ্জাদুর রহমান পলিন জানান, গত মঙ্গলবার রূপালী ব্যাংক সুনামগঞ্জ শাখায় রেমিটেন্সের ৩ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে ঠিক একইভাবে ফেরৎ আসেন। পরে বুধবার আবার এই ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ব্যাংক ব্যবস্থাপক সিলেটে লেনদেন চালু রাখার বিষয়ে কথা বলেন। শেষে অনেক চেষ্টা-তদবির করে তিনি টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু কোন ব্যাংকই রোববারও দুপুর সাড়ে ১২ টার পর লেনদেন চালায় নি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাছান শাহীন বলেন, হঠাৎ করে ভার্চুয়াল কোর্টও বন্ধ হওয়ায় বিচারপ্রার্থী জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আপ্তাব উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ পৌর এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এতে বিচারপ্রার্থীরা অবশ্যই সমস্যায় পড়েছে। এখন আবার স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।
সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জের অঞ্চল প্রধান সুজাদুল হক বললেন, গত ১৫ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে রেড জোন বা লকডাউন হলে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২ পর্যন্ত খোলা রাখা যেতে পারে। আমাদের পক্ষ থেকে গত বুধবার জেলা প্রশাসক মহোদয়কে চিঠি দিয়ে এই বিষয়ে করণিয় জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি মৌখিকভাবে খোলা রাখার জন্য বলেছেন। আমরা খোলা রাখছি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শামস উদ্দিন বলেন, রেড জোন’এর প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, এখনও যেহেতু কার্যকর হয় নি, আগের মতোই নরমাল কার্যক্রম চালাতে হবে। এই বিষয়ে বিভ্রান্তির কিছুই নেই।

Stay Home

এ জাতীয় আরও সংবাদ

আমেরিকা প্রবাসী কাউছার’র ঈদ শুভেচ্ছা….

sylhet vision

বিদ্যুৎতে আলোকিত হবে হাওরের প্রতিটি গ্রাম, হাসি ফুটবে হাওরবাসীর মুখে…..এমপি রতন

sylhet vision

সুনামগঞ্জে আরও ৮ জনের করোনা শনাক্ত

sylhet vision